Friday, 1 August 2014

ভোট লুঠ ঠেকাতে বুথরক্ষা বাহিনী চান অমিত

লোকসভা নির্বাচনে দল একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তার পরেও উত্তরাখণ্ড বিধানসভার উপনির্বাচনে দল একটি আসনেও জিততে পারেনি। উল্টে নিজেদের দখলে থাকা দু’টি আসন খুইয়েছে। এই অবস্থায় প্রতিটি নির্বাচনকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন দলের নতুন সভাপতি অমিত শাহ। আর সেটা করতে গিয়ে ভোটে বিরোধীদের হাতে বুথ লুঠ হওয়া ঠেকাতে এ বার ‘বুথরক্ষা বাহিনী’ তৈরির নির্দেশ দিলেন তিনি।
সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে ছিলেন অমিত। সেখানে বিজেপি অপ্রত্যাশিত ভাল ফল করলেও বহু জায়গাতেই বিরোধীদের হাতে বুথ দখলের ঘটনা নজরে এসেছে দলীয় নেতৃত্বের। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার থেকেও বহু বুথ লুঠের খবর পেয়েছেন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গের ফল পর্যালোচনা করে বিজেপি নেতৃত্বের ধারণা, বুথ দখল না হলে বিজেপি আরও কয়েকটি আসন অনায়াসেই জিততে পারত। দলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনকে জানালেও বহু ক্ষেত্রেই সময় মতো সাড়া মেলে না। এ বারে তাই দলীয় স্তর থেকেই এর মোকাবিলায় নামছেন অমিত শাহ। দলের দায়িত্ব নিয়েই তিনি বুথ স্তরে সংগঠন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য নেতাদের। বুথ আগলে রাখার জন্যও তরুণ কর্মীদের তৈরি করতে বলছেন নবনিযুক্ত বিজেপি সভাপতি।
নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার ব্যাপারে পারদর্শিতার জন্য বিজেপির অন্দরে অনেকেই অমিত শাহকে ‘মাস্টার স্ট্র্যাটেজিস্ট’ বলে ডাকেন। দু’দিন আগেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহের সঙ্গে ভোট জয়ের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। অমিত-ঘনিষ্ঠ শিবিরের বক্তব্য, রাহুল সিংহকেও এই ‘বুথরক্ষা বাহিনী’ তৈরির কথা তিনি বলেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিজেপির সমস্যা হল, গো-বলয়ের রাজ্যগুলির মতো সেখানে সাংগঠনিক শক্তি সে ভাবে তৈরি হয়নি। ফলে এখন কয়েকটি বুথে এই বাহিনী তৈরি সম্ভব হলেও অধিকাংশ বুথেই তা সম্ভব নয়। তবে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, “নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির প্রতি মানুষের ভরসা বাড়ছে, সেটা আশার কথা। অন্য দলের কর্মীরাও এখন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। ফলে তাঁদের নিয়ে একটি শক্তিশালী টিম তৈরি করতে হবে প্রতিটি বুথে।”
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় পরীক্ষা হতে পারে বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন।  নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই বিধানসভার দু’টি আসনে উপনির্বাচন হতে পারে। ওই দু’টি কেন্দ্র হল কলকাতার চৌরঙ্গি এবং উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট দক্ষিণ। চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক শিখা মিত্র পদত্যাগ করেছেন। বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রের সিপিএম বিধায়ক নারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছে। তা ছাড়া, লোকসভা নির্বাচনের আগে ও পরে রাজ্যের ৬ জন বিধায়ক দলবদল করেছেন। কিন্তু তাঁরা এখনও পদত্যাগ করেননি। নির্বাচন কমিশনের এক মুখপাত্র জানান, ওই দু’টি কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার আগে যদি দলবদলকারীরা পদত্যাগ করেন, তা হলে মোট ৮টি আসনে একই সঙ্গে ভোট হতে পারে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, রাজ্য বিজেপি কোনও ‘বুথরক্ষা বাহিনী’ গড়তে পারল কি না এবং তারা কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে, তার একটা মহড়া হয়ে যাবে ওই ভোটে। 
সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সপ্তাহে এক দিন দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উপস্থিত থাকেন। আজ সংসদের সেন্ট্রাল হলে সেই বৈঠকে বেনজির ভাবে অমিত শাহকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে মোদী পুষ্পস্তবক দিয়ে বিজেপির নতুন সভাপতিকে স্বাগত জানান। সভাপতি হওয়ার পর সাংসদদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, মানুষের সঙ্গে কোনও ভাবে যোগাযোগ যেন বিচ্ছিন্ন না হয়। গত সপ্তাহেই সংসদের ওই বৈঠকে গরহাজির ছিলেন একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ। এতে অসন্তুষ্ট হন মোদী। তার পরে সাংসদদের সময়ে আসার নির্দেশ দেন বেঙ্কাইয়া নায়ডু। কিন্তু তার পরেও আজ জনা চল্লিশ সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের চিহ্নিত করে দলীয় স্তরে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন বেঙ্কাইয়া।

No comments:

Post a Comment