Wednesday, 30 July 2014

‘রুপো’ কুড়োতে পথে নেমে হুড়োহুড়ি সল্টলেকে

             রুপোর খোঁজে। মঙ্গলবার সল্টলেকে।

এ যেন ‘সিলভার রাশ’। বুলেভার্ডের ধারে ধুলোবালি, আবর্জনায় আঁতিপাঁতি খুঁজে চলেছেন অসংখ্য মানুষ। সাইকেল, মোটরবাইক থেকে নেমে হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় বসে পড়ে হাতড়াচ্ছেন অনেকে। দামি গাড়ি থামিয়ে চালকের পাশাপাশি ধোপদুরস্ত পোশাক পরা সওয়ারিও পথে নেমে নোংরা ঘাঁটছেন। কেন? হয়তো পেয়ে যেতে পারেন একখণ্ড রুপো। যার আকার ছোট বলের মতো। মঙ্গলবার সকালে ওই রুপোলি রঙের ধাতব বল জোগাড় করা নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল সল্টলেকে।
সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সল্টলেকে সিটি সেন্টার থেকে মহকুমা হাসপাতালমুখী রাস্তার প্রায় এক কিমি জুড়ে নানা আকারের রুপোলি রঙের ধাতব বল পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রথমে দু’এক জন পথচলতি মানুষ সেগুলি হাতে নিয়ে দেখতে থাকেন। এর পরেই লোক মুখে ছড়িয়ে পড়ে ‘রুপোর বল’ পড়ে আছে রাস্তায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই অসংখ্য লোক জমায়েত হয়ে তা কুড়োতে শুরু করেন। রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। পুলিশ জানায়, ঘটনার জেরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজট হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হিমসিম খেয়ে যায় ট্রাফিক পুলিশও। বল কুড়োতে ব্যস্ত এক মাঝবয়সী ব্যক্তি এক জন ট্রাফিক অফিসারকে বলেই দেন, “মশাই, আর পাবেন না, আপনিও দুটো বল নিয়ে নিন।”
রুপোলি রঙের সেই বল।
করুণাময়ী যাচ্ছিলেন তন্ময় বসাক। রাস্তার ভিড়ে তাঁর গাড়ি আটকে যায়। তিনি জানান, গাড়িচালক ভিড়ের কারণ জিজ্ঞাসা করতে সেই যে নেমে গেলেন, ফেরার নাম নেই। তন্ময়বাবু বলেন, “নেমে দেখি সকলে রাস্তার নোংরা ঘাটছেন। সেখানেই চালককে খুঁজে পাই। হাতে গোটা দশ ছোট বল।” দামি গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি বল কুড়োচ্ছিলেন। তাঁর কাছে একটা বল চাইতেই জবাব এল, “দূর মশাই, অনেক ধাক্কাধাক্কি করে তিনটে বল জোগাড় করলাম। খানিক আগে এলে আরও ক’টা পেতাম।”
ওই পথেই সল্টলেকের মহকুমা হাসপাতাল। রোগীর পরিজনেদের অনেককেই দেখা গেল ছুটছেন বল কুড়োতে। হাসপাতালে ঢোকার উপায় নেই। এক দিকে মানুষ অন্য দিকে গাড়ির ভিড়। এর জেরে সিটি সেন্টার, সিএ আইল্যান্ডমুখী রাস্তা, করুণাময়ীমুখী রাস্তায়ও গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। হাসপাতালের কর্মীরাও এ দিন রাস্তায় নেমে পড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ হয়নি। শেষে পুলিশবাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি সামলায়। পুলিশকর্তাদের দাবি, কোনও গাড়ি থেকে ওই ধাতব বল রাস্তার ধারে ছড়িয়ে পড়ে। সল্টলেকের এডিসিপি দেবাশিস ধর বলেন, “রুপোলি রঙের ধাতব বল রাস্তার ধারে পড়েছিল। তাই নিয়ে এই অবস্থা। যে ভাবে যানজট তৈরি হয়েছিল তাতে যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ওই ধাতব বস্তু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক ভাবে সেটি রুপোর তৈরি বলে মনে হচ্ছে না।”


No comments:

Post a Comment